বাংলাদেশে হারিয়ে যাওয়া পেশা , তাদের ইতিহাস এবং বিলুপ্তের কারন।
24 Sep 2025 By -ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
মানুষের দৈনন্দিন কাদের তাগিদে তৈরি হয় পেশা আবার এই কাজের চাপেই হারিয়ে যায় সেই পেশা আজকে আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশের বিলুপ্ত হওয়া এমন কিছু পেশা নিয়ে যা তৎকালীন সময়ে খুবই সমসাময়িক এবং বহুল প্রচলিত ছিল।
রানার
সর্ব প্রথমে বলতে হয় রানার এর কথা রানার যাদের কাজই ছিল এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় মানুষের কথা বার্তা পৌঁছে দেওয়া। যারা মূলত চিঠি আদান-প্রদানের কাজে কাজ করতো। আগেকার যুগে রাজপ্রাসাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক এবং দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজ আনার নেওয়ার কাজে নিয়োগ করা হতো রানারদের। তারপরে ধীরে ধীরে এটি আরো বৃহৎ পরিসরে ব্যবসায়িক কাজে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তাদের নিজেদের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য রানার নিয়োগ করত । আজ সময়ের গর্ভে টেলিফোন ম্যাপ ফ্যাক্স টেলিগ্রাম ইন্টারনেট আধুনিক সকল সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে হারিয়ে গেছে সেই রানারদের পেশা
নৈচাবন্দ
এই পেশার নাম শুনে আজকের জেনারেশনের অনেকে ই হয়তো চিনতেই পারবে না ।একসময় আমাদের দেশে হুক্কা খাওয়ার প্রচুর প্রচলন ছিল , ঢাকা শহর ছিল উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় হুক্কা বানানোর শিল্প । এই হুক্কা বানানোর কাজ যারা করত তারাই মূলত নৈচাবন্দ। মুলত ঢাকায় নৈচাবন্দ বানানো হলেও এই নৈচাবন্দরা ছিল সিলেট অঞ্চলের মানুষ। যারা সাধারণত হুক্কা বানানোর কাজে ব্যবহার করতো শিমুল জাম জামরুল কাঠ। বর্তমানে হুক্কা খাওয়ার প্রচলন উঠে গেছে এই পেশারও প্রচলন দিনে দিনে হারিয়ে গেছে ।
ধুনারি
আমরা ছোটবেলায় ধুনারীদের দেখেছি ধুনারি পেশা একটা বাংলাদেশের অতি প্রাচীন পেশা । মূলত যারা তুলো ধনু করে লেপ বালিশ তোশখ তৈরি করে । অতীতে দেখা যেত ধুনারিরা বাড়িতে গিয়ে তুলাধুনো করে লেপ বালিশ তোশখ তৈরি করে দিয়ে আসতো। রাজধানীর পাশাপাশি গ্রাম অঞ্চল থেকেও ধুনরিদের পেশা একদম বিলুপ্ত হয়ে গেছে ।
পালকি বাহক
পালকি প্রাচীন যানবাহনের অন্যতম। বর্তমান আধুনিক যুগ সুপারফাস্ট ভেরি সুপারফাস্ট মডেলের গাড়ি চলে আসলেও প্রাচীনকালে মানুষ ব্যবহার করত তাদের এক মাত্র জানবাহন পালকি। এক জায়গা থেকে অন্যস্থানে যাওয়ার কাজে পালকিতে করে মানুষ যাতায়াত করত। এই বালতি যারা বহন করতো তাদের বলা হয় পালকি বাহক। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় পালকি বিলুপ্ত হয়ে গেছে পালকি বাহক এই পেশাও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
ভিস্তিওয়ালা
ঢাকা শহরের সর্বপ্রথম সুপ্রিয় পানির প্রচলন শুরু হয় ১৮৭৮ সালের দিকে । তার আগে ঢাকা ঢাকা ছাড়াও সারা বাংলাদেশের মানুষের খাওয়ার পানি ছিল নদী-নালা ,খাল , বিলের পানি। তো প্রথম যখন সুপেয় পানির প্রচলন শুরু হয় তখন মশকে ( মশক চামড়া দিয়ে তৈরি এক ধরনের ব্যাগ ) করে টাকার বিনিময়ে বাসায় ভাষায় ভিস্তিওয়ালারা পানি সরবরাহ করত। বর্তমানে আধুনিক ফিল্টার আধুনিক সকল পানির ব্যবস্থা হওয়ায় এই ভিস্তি ওয়ালাদের পেশা বিলুপ্ত হয়ে গেছে
বাইজি
আগেকার দিনে রাজা-বাদশাদের রাজ দরবারে নৃত্য পরিদর্শন করত যারা তারা ছিল মূলত বাইজি। বাইজিরা সব সময় সৈন্য, সেনা, প্রহরীদের পাহারায় কঠোর পর্দার মাধ্যমে চলাফেরা করতো । সাধারণ মানুষ এদের দেখতে পেত না তখনই সাধারণ মানুষের অনেক আগ্রহ ছিল এই বাইজিদের দেখার মাঝে । ধীরে ধীরে যখন রাজা-বাদশাদের কাছে অর্থের জোগান কমে গেল, তখন হারিয়ে গেল বাইজিদের পেশা । আধুনিক পয়সাওয়ালারা নাইট ক্লাবে বেলি ড্যান্স করতে পারে করতে আগ্রহী। কাজেই কালের গর্ভে এভাবে বিলুপ্ত হয়েছে বাইজিদের পেশাও।
সাপুড়ে
আগে সারা বাংলা ছিল জঙ্গল বন সকল কিছুতে ঘেরা, গাছ গাছালিতে ঘেরা । ঢাকা শহরে ছিল একদম বন জঙ্গলে পরিপূর্ণ । কাজেই তখন দেখা যেত এখানে সেখানে মাঝেমধ্যেই সাপ বের হতো । এই সকল সাপদের ধরে নিয়ে যেত সাপুরেরা । বিশেষ করে যখন বর্ষাকালের শেষে গ্রাম গঞ্জের মানুষের বাড়ি থেকে কৌশলের মাধ্যমে সাপ ধরে নিয়ে যেত। এতে মানুষের অনেক কৌতুহল ছিল আবার তারা সাপের খেলাও দেখাতো । এখন মাঝেমধ্যে এদের দেখা পাওয়া গেলেও কালের গর্ভে এরাও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
লোকশিল্পী
একটা সময় যখন বাংলার ঘরে ঘরে মেয়েদের কাছে হাতে থাকতো সুই সুতো । অবসর সময়ে তারা এই সুই সুতার মাধ্যমে এবং তাদের হাতের দক্ষতা ফুটে তুলত অসামান্য বিভিন্ন শিল্প নকশি কাঁথা। কিন্তু বর্তমানে সকল মেয়েরা গার্মেন্টসের উপর দিকে ঝুকে পড়ায় কমে গেছে সকল হস্তশিল্পের কাজ।
এছাড়াও আগে বাশের তৈরি টোপর বা টুপরি পার্টি মাদুর এই সকল কিছু গ্রামের মানুষ একদম হাতে বুনে তৈরি করতো । এখন প্লাস্টিকের সকল পণ্যের কারণে বাশের তৈরি সেই সকল হস্তশিল্প বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
প্রাচীন পেশা হারিয়ে যাচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য কাজেই প্রাচীন সকল নিদর্শনকে বেঁচে রাখতে এই সকল প্রাচীন পেশারদের সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে বুঝতে হবে।
এই বিষয়ে আপনার কোন মন্তব্য থাকলে কমেন্ট বক্সে তা জানাতে অবশ্যই ভুলবেন না।



